দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
রোববার (১১ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তার’ বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে সুপারিশ করেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে ড. মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এ নিয়োগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি মারদানের বাসিন্দা।
সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ, বহিরাগত আগ্রাসন কিংবা প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা জারির বিধান রয়েছে। তবে প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাব প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ২৩৪ অনুচ্ছেদে কোনো প্রদেশে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে গভর্নর শাসন জারির বিধান রয়েছে। এ অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা ঘোষণা দুই মাসের মধ্যে সংসদের যৌথ অধিবেশনে অনুমোদন করতে হয়। অনুমোদন সাপেক্ষে এর মেয়াদ আরও দুই মাস করে বাড়ানো যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই এ ব্যবস্থা ছয় মাসের বেশি বহাল রাখা যাবে না।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারকে সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের অর্থনীতি অস্থিতিশীল করতে দেব না।’
খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ নাগরিক, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, শিশু ও মায়েদের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান বারবার প্রতিবেশী আফগানিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হুতি হামলার নিন্দা জানান শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন সহ্য করবে না। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাই পাকিস্তানের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সাম্প্রতিক পর্যায়ের চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের মধ্যেই সংস্থাটির ১২০ কোটি ডলারের কিস্তি ছাড় করা সম্ভব হবে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠকের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
পাকিস্তানের আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন শাহবাজ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে মধ্যস্থতাসহ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
/অ